Tuesday, November 6, 2018

কবিতা - জমিন

ছকে বেঁধেই বলতে হবে তুমি আমি?
ছকে বেঁধে ফেলতে হবে পদক্ষেপ,
বলতে হবে গল্পটা তোমার আমার!
এমন কেন?
তুমি বৃত্ত হও আমি কেন্দ্র হব। 
অথবা তুমি কেন্দ্রে যেও আমি তোমা হতে দূরে দূরে আরো দুরে চলে যাই!
মনটা উড়ুক বেলুনের মত।
একটা জাহাজ মার্কা বেলুন। উড়ে চলে নিষিদ্ধ নগরে, অচেনা জানলায় ফেলে আসে দীর্ঘশ্বাস।
সব তোমার জানতে হবে? কেন? সব জেনো না।
মানুষের বুকের জমিন তো রঙ বদলায় মাঝে মাঝেই।
সে জমিন সবুজ থেকে কালচে সবুজ হতে পারে,
হতে পারে মেঘের মত সাদা!
সেখানে তুমি করো রাজ্যশাসন, আবার দস্যু এসে হানা দেয়।লুটে নিয়ে যায় যা ছিল একদিন তোমার।
যাহ! হেরে গেলে? পালিয়ে গেলে?!
এত সহজেই প্রেম হারতে শিখেছে আজকাল?!
প্রহরী রাখলে না কেন?
সদর দরজায় রাখলে না কোন ব্যাঙ্গমাব্যাঙ্গমীরে! শোলক বলা বুড়োদের দিতে তালা বানিয়ে৷
আহ! এমন বোকাটে রাজার রানী হয়ে মরব কেন?
এই দেখো উলটে দিলাম বোর্ড।
এবার তুমি কিন্তু বিরোধীদল, দস্যু হলো রাজা।
ইন্টারেস্টিং কি বল?!
আর আমি? আমি তো সেই মেয়ে, বন বাদাড় শহর, বন্দর পেরিয়ে দিন রাত্রি উড়ে যাচ্ছি জাহাজ বেলুনে।
মাঝে মাঝে যুদ্ধ বাঁধাচ্ছি তোমার বুকে,
আগুন ধরিয়ে দিচ্ছি তোমার রক্তে,
নিজে পুড়ছি তোমায় পোড়াচ্ছি।
রাজা পুড়লে রাজ্যপাটের কি প্রয়োজন?
তছনছ হোক, ধ্বংস হোক।
আচ্ছা দস্যুর কি হবে?
সেও তো রাজা। বিদ্রোহী, লুটেরা রাজা!
হাহাহাহা....!
এই জানো, বিদ্রোহীর থাকে কিন্তু ভীষণ টান।
কেড়ে নিতে চায় সব সবকিছু, ছিঁড়েখুঁড়ে দেখে নিতে চায়, করতে চায় দখল সবটা জমিন!
যে দহনে পোড়ে না মনুষ্য হৃদয়, সেই দহনে পোড়াতে ভালোবাসে সে।
আচ্ছা ভালোবাসতেই হবে কেন?
এসো তো কাঁচের তলায়। তোমায় দেখি উল্টেপালটে। তুমি পরাজিত সৈন্য শিবিরে কয়টা বুনেছো বীজ?
কি ফোটালে? গোলাপ, বেলী, জুঁই, দোলনচাঁপা?
কয়বার করলে তোপধ্বনি? পায়রা ওড়ালে?
ভালোবাসলে?
এই শুনছ! আগামী শীতের আগেই ঘরে তুলবে রবিশস্য শত্রুপক্ষ তোমার,
জেনো তোমারই জমিনের পাড় ভেঙে নিয়ে যাবে কে বা কারা
রাতের আঁধারে,
কেটে নিয়ে যাবে এই বেলা গোলাপের ঝাড়।
শুনেছো তো?
সে যাকগে। শুধু দস্যি রাজার নস্যি হতে কে চায়?
এসো বদলে ফেলি ঘর, চল পালাই।
তুমি বলবে আজ হাওয়া হব
আমি বলব সমুদ্র
তুমি বলবে এসো চুমু খাবো
আমি বলব রাতটা নামাও
লক্ষ পিদিম জ্বলুক বুকের জমিনে!
তুমি বলবে জ্বলুক না! পুড়ে যাক অমরত্বের প্রাসাদ!
আমি বলব চল আগুন হই......!
২৭/৯/১৮

কবিতা- একটা জরুরী কথা বলবার ছিল

একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
প্রতি বাস্তবতায় তুমি ছিলে অধিশ্বর,
তুমি ছিলে অলিগলি প্রান্তর জুড়ে।
একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
অরুন্ধতী ছিল আলো জ্বেলে তোমার পথে
হেমন্তের ঝরা পাতার দীর্ঘশ্বাসে ছিল
তোমার অপেক্ষা!
একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
তপ্ত আবেগে অস্তিত্বে হয়েছিল প্রবল বর্ষন,
রক্তে ভাঙন আর প্রেমের উন্মাদনায়
হৃৎপিন্ডে প্রবল করাঘাত!
একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
অষ্টম জগতটা ছিল তোমার নামে কেনা
সপ্তমে দিনরাত্রি ঋণগ্রস্থ তুমিহীনতায়
অথচ পঞ্চমে সাজ সাজ রবে তোমার রাজ্যপাট!
একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
তৃতীয়ার চাঁদে তোমায় পাঠিয়েছি নিমন্ত্রণ
সন্ধ্যের ঘাসফুলে ভালবাসা
কার্তিকের রাত জুড়ে স্পন্দিত বাতাসে প্রেম!
একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
অক্টোবরের শেষ সন্ধ্যায় বিবাগী হবে জোছনা,
তুমি ভুলবে পথ,
বিপাশার কোল ঘেসা রেস্তোরাঁয়
বাজবে ভায়োলিন!
সহস্র বছরের লুকোচুরি শেষে
আমাদের আবারো হয়ে যাবে দেখা!
সেইদিন,
ভালবাসি বলবে তো?!

২৯/৯/১৭

কবিতা - জল

আমি জল ভালবাসতাম
আর তোমাকেও
তুমি ছিলে আদিগন্ত অদেখা এক হ্রদ
তোমার জলে চাঁদ ডুবে যায়, কুয়াশা পথ হারায়!
আমি জলজ জীবন ভালবাসতাম
শ্যাওলায় আবৃত তোমাকেও,
তোমার নিস্তরঙ্গ শরীর জুড়ে জলের ঘ্রাণ
শতবর্ষী বটের মত, আধডোবা সিঁড়ির মত।
আমি জলের চোখে দেখেছি প্রেম
নিম্নগামী প্লবতায় তোমাকেও
তোমার হৃদয় জুড়ে মাধ্যাকর্ষণ
তুমি যেন এক অতলান্ত রহস্য!
আমি জল ভালবাসতাম
আর তোমাকেও
তোমার বুকে শরতের আকাশ হয়ে
বিম্বিত হয়েছি প্রতি সূর্যে,
আশ্বিনের ঝড় হয়ে তোমায় ঘিরে করেছি মাতম!
চাঁদ জাগা রাত হয়ে তোমায় শুনিয়েছি
দুর নক্ষত্রের গান!
ভোরের কবিতায় বলেছি আরব্য রজনীর
না ফুরোন গল্প,
আমি জলের গল্পে তোমায় খুঁজেছি
আর তোমার পদ্মপাতার দুঃখও,
আমি জল ভালবাসি
গ্রহণ লাগা তোমাকেও
তোমার চোখের তারায় দুর সমুদ্র
অবগাহনের তৃষ্ণা জুড়ে ঝড়ের বার্তা!
শেষ হেমন্তে কৃষ্ণপক্ষের ভাঙা চাঁদে বিভ্রম লাগে
তুমি কি ফের মানুষ হয়েছিলে?!
আমি জল ভালবাসতাম
জলজোছনায় প্লাবিত তোমাকেও।।

২/১০/১৭

কবিতা- শব্দ

অথচ শব্দের গায়ে লাগে না পাপ
মানুষের দিনরাত্রির মত
মানুষ রক্ত ঘাম পরীক্ষা দিতে দিতে ক্লান্ত
অথচ তার পাপের ফর্দ নীলনদসম!
অথচ শব্দেরা রাজহংস
শব্দেরা চন্দনগন্ধী
মানুষের বুকের তলায় শুধু চোরাবালি
মানুষের পাঁজরায় উইয়ের ঢিবি।
অথচ শব্দ গুচ্ছ পায় শুদ্ধতার খেতাব
শব্দগুচ্ছ লেখা হয় স্বর্ণাক্ষরে
মানুষের চোখের দামে বিক্রি হয়ে যায় ভালোবাসা
নিকোটিনে ফুসফুসে ক্ষত অথচ শব্দের গায়ে উজ্জ্বল
সোনালী আভা!
অথচ শব্দের গায়ে প্রেম হেলান দেয় না
প্রেম প্রতিবাদ করে না, শব্দকে করে প্রত্যাহার
অথচ প্রেম শব্দহীন অন্ধকারে বসে থাকে
পাপ স্খলিত মানুষের জন্য
কাদা মাটি জল মানুষের জন্য
রক্ত মাংসের মানুষের জন্য।।
অথচ প্রেম শব্দকেই বেসেছিল ভালো
মানুষকে নয়....!
৩/১০/১৮

সমাপ্তি-একটি কথাকাব্য

কেমন একটা মেঘলা ছিল সেই দিন যেদিন তুমি আমায় বলেছিলে আজ এখানেই হোক সমাপ্তি। সমাপ্তি তো কোন ফুলস্টপ নয় যে একটি ডট দিয়েই বন্ধ করে দেবে দুয়ার। মনের মাঝে যে তুমি আছো। ঘরবসতি কর রাজার মত সেখান থেকে কেমন করে তোমাকে তাড়াই বল? কি করে রাজার রাজত্ব ভেঙ্গে দিয়ে বলি 'যাও ভাগো! সমাপ্তি যখন টেনেছোই তখন আর আমার মনে থাকতে পারবে না। এখানে তোমার দিন ফুরিয়েছে!' তাই কি বলা যায়?! বল?
মনের তুমি অনেক দূর ছড়িয়েছো তোমার রাজত্ব আসল তুমির চেয়ে। রাজত্ব ছেড়ে সে যেতে চাইবে কেন? বরং তাকে তাড়াতে চেয়েছি এই অপমানে রাগে ক্ষোভে মনের পৃথিবী ভেঙ্গে চুরে ,জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করবে না বল?
একদিন হয়ত সমাপ্তি বলে কিছু থাকবে না আর। থাকবে শুধু শুরু আর সীমাহীন চলতে থাকা। এই শব্দটিকে নির্বাসন দেয়া হবে শব্দরাজ্য থেকে। তখন আর কোন রাজার রাজত্ব পুড়বে না অপমানের অঙ্গারে। আর কেউ কাঁদবে না অঝোর ধারায়। আর কেউ খুঁজবে না স্লিপিং পিল। আর কেউ চাইবে না হতে নিখোঁজ ভীড়ের ভেতর।
সমাপ্তি তোমায় দিলাম নির্বাসন ভালো না লাগার পৃথিবীতে। সেখানে তুমি দিয়ে যাও অবিরাম ডট। ঘটিয়ে যাও ছেদ। অথবা বসিয়ে যাও দীর্ঘ দীর্ঘ শূন্যস্থান। যা খুশি কর।
শুধু এখানে আসবে না। চির বসন্তের পৃথিবীতে তোমার প্রবেশ নিষেধ!
আর কোন তুমি খুঁজে পাবে না এই শব্দটিকে। ভাঙ্গবে না রাজ্যপাট। শুধু ভালোবাসাই তুমি ফিরিয়ে দেবে আরো ভালোবাসবে বলে।
২৫/১০/১৭

কণাকাব্য

১।
ঠিক এইরকম ঘন সবুজ জগতে আমি থাকি
আমার চোখের ভেতর সবুজ বন, কানের ভেতর পাখির কুজন, 
আমার গলার ভেতরে শোনায় গান বউ কথা কও, ফিঙে, বুলবুলি....
আমার নিউরণে তীব্র ফুলের সুবাস,
তুমি কেমন করে আমায় খুঁজে পাবে বল?
কেমন করে?!
৩/১০/১৮
২। 
অপাপবিদ্ধ প্রেমের গল্পটা জমা রেখো বুকপকেটে
একটি মুনিয়ার শিস জমা রেখো বুকের ভেতর
দিন ফুরালে ফিরে এসো নদীর মত
সূর্যের দিনে প্রেমকে করো ফেরারী.. …!
৩/১০/১৮

৩।
এই শহরে নির্জনতাই দামী
কতকটা বুঝেছে চাঁদ
কতকটা এই আমি...!
২/১০/১৮

৪।
কে তুমি
ভালোবাসাকে বলো অচ্ছুৎ?
তুমি তবে কোন নরকে রাখবে মাথা?
কোন আগুনে করবে বাসর?
১৪/১০/১৮

৫।
আমার চোখেই সূর্য জ্বলে!
আমার চোখেই বিশ্ব
আমিই তো সূর্যকন্যা
আমিই মহাবিশ্ব!!
১৪/১০/১৮

৬।
নাইবা ভালোবাসলে আমায়
কিন্তু জেনে রাখো
আমায় তুমি ভুলতে পারবে না...!!
১৪/১০/১৮

৭।
আমাকে একাই থাকতে দিও
আমি শহরের বুকে ছোট্ট দ্বীপের মত জেগে থাকব
আমাকে একাই থাকতে দিও...!
২২/১০/১৮

৮।

কি করে কাটে গো দিন দেখলা না
তোমার জন্য রক্ত জল ফুরিয়ে গেল জানলা না
শর্ত ছিল দুপুর হবে
শর্ত ছিল শালিক হবে
ভুইলা গেলা? 
৩০/৯/১৮

৯।
সেইসব রাতে জেগে থেকো
যে রাত গুলোকে চেনো না তুমি
সেই রাত গুলো দেখো
যে রাতে অস্তিত্ব বলে শুধু আমিই তোমার
আর কেউ নয় 
আর কেউ নয়....!
৩০/৯/১৮

Translated poem - jol

From the Translation Desk of Hasan Haider

Sraboni Ahmed Jui's Bengali poem "Jol"
আমি জল ভালবাসতাম
আর তোমাকেও
তুমি ছিলে আদিগন্ত অদেখা এক হ্রদ
তোমার জলে চাঁদ ডুবে যায়, কুয়াশা পথ হারায়!
আমি জলজ জীবন ভালবাসতাম
শ্যাওলায় আবৃত তোমাকেও,
তোমার নিস্তরঙ্গ শরীর জুড়ে জলের ঘ্রাণ
শতবর্ষী বটের মত, আধডোবা সিঁড়ির মত।
আমি জলের চোখে দেখেছি প্রেম
নিম্নগামী প্লবতায় তোমাকেও
তোমার হৃদয় জুড়ে মাধ্যাকর্ষণ
তুমি যেন এক অতলান্ত রহস্য!
আমি জল ভালবাসতাম
আর তোমাকেও
তোমার বুকে শরতের আকাশ হয়ে
বিম্বিত হয়েছি প্রতি সূর্যে,
আশ্বিনের ঝড় হয়ে তোমায় ঘিরে করেছি মাতম!
চাঁদ জাগা রাত হয়ে তোমায় শুনিয়েছি
দুর নক্ষত্রের গান!
ভোরের কবিতায় বলেছি আরব্য রজনীর
না ফুরোন গল্প,
আমি জলের গল্পে তোমায় খুঁজেছি
আর তোমার পদ্মপাতার দুঃখও,
আমি জল ভালবাসি
গ্রহণ লাগা তোমাকেও
তোমার চোখের তারায় দুর সমুদ্র
অবগাহনের তৃষ্ণা জুড়ে ঝড়ের বার্তা!
শেষ হেমন্তে কৃষ্ণপক্ষের ভাঙা চাঁদে বিভ্রম লাগে
তুমি কি ফের মানুষ হয়েছিলে?!
আমি জল ভালবাসতাম
জলজোছনায় প্লাবিত তোমাকেও।।
#জল
#শ্রাবণী জুঁই
২/১০/১৭
Love for the water
*********************
I would like water
I would love you too.
You looked like a lake hidden in the horizon
In your water the moon sinks, the fog loses its course!
I was attached to the life of amphibians
You too, when you are covered with seaweed,
Your calm body smells of water
Like the very old banyan tree, the stairs half sunk.
I found love in the stream's eye
I also found you in down buoyancy
Your heart has a huge gravity
You are a kind of endless mystery.
I loved the water
You as well
I would reflect on each sunrise
Being the autumn sky in your bosom,
All around you, I cried like the 'Aswin' storm !
Waking up at night with the moon
I had you hear the songs of far off stars!
I told you the incomplete stories of the Arabian Night
In the morning poems or mine,
I looked for you in water tales,
I looked in your sorrow for the lotus leaf,
I loved the water
I loved you while you eclipsed.
In your eyes the inaccessible ocean
In which you like to dive looked like a bad omen,
In late autumn, it's the broken moon of a dark fortnight.
Have you changed in a human being once again?!
I was an admirer of water,
I loved you as you immersed in the watery moon flickers.
Hasan Haider
03 October 2018