Tuesday, November 6, 2018

কথোপকথন ১৫

আমাকে ছুঁয়ে বলিস ভালোবাসিস না
কোনদিন চড়ুই পাখির হৃদয়ে বাসা বাঁধিসনি
বলিস শেষ ট্রেনে তোর ঘরে ফেরার তাড়া ছিল না
কলের তলায় তুই তৃষ্ণার জল নয় একজোড়া ভেজা হাতের অপেক্ষা করতিস!

করিডরের দীর্ঘতায় তুই হারিয়ে গেছিস কবে
ছায়ারা ক্রমহ্রাসমান হতে হতে
একটি বিন্দুতে এসে থেমে গেছে
জানিস তো সে এক বন্ধ্যা বিন্দু
যেটার বৃত্তে রুপ নেবার আর কোনই সুযোগ ছিল না
তুই তো জানতি ইরাবতী!
তুই তো মেখলায় যাবি, কাশবন ঝাউবনে আলতার ছাপ ফেলে দৌঁড়ে যাবি
সেলুলয়েডের ফিতেয় তোর লাল শাড়ি থেকে রঙ চুইয়ে চুইয়ে পড়বে
ফিতেটা লাল থেকে টুকটুকে গাঢ় লাল হতে থাকবে
তোর বেনীতে সে ফিতে দুলবে হাওয়ায় হাওয়ায়
হাওয়ায় হাওয়ায়...
এমনই তো হবার কথা ছিল!

আমাকে ছুঁয়ে বল ভালোবেসেছিস কাকে?
কোন সে রমনী?
কে সে?!
হলুদ চন্দন আর মেহেদী পাতায় রেখেছিস কাকে?
কার বুকে 'অ' আদ্যাক্ষরের ভীষণ ঝড়?

যে রমনী আসবে বলে আর এলো না
আমি তার নাম দিয়েছিলাম পদ্ম
যে রমনীর আলতা রাঙা পা পড়বে এই বুকে
কথা দেয়া ছিল সন্ধ্যার আকাশে
সে রমনী গোধূলির আলো
সেই তাদের গল্পে আমি কই?!
ইরাবতী?

অভিমান, তোর বুকের বাঁ পাশটায় ক্ষত ছিল
মরনাপন্ন ছিলি, মনে পড়ে?
আমি ছিলাম তোর ছায়া
আমি ছিলাম এলোমেলো পায়ের ছাপ
আমি ছিলাম কি শুধুই তোর অন্যমনস্ক আবেগ?!
অভিমান?!

ভালোবাসি না আর!
ভালোবাসতে ভীষণ অরুচি আজকাল
তুই ফিরে যা তো
ফিরে যা সেলুলয়েডের ফিতেয়।
এবার লাল থেকে আসমানী নীল হোস কেমন
ছুঁয়ে দেবো সে ফিতেয় বোনা মেঘচুল, শাড়ির পাড়
ছুঁয়ে দেবো দেবীর করতলে আজন্ম তৃষিত ঠোঁট!
ইরাবতী তুই কি দেবী?! না কি এ শুধু আমারই ভ্রম?!!

৯/১০/১৮

No comments:

Post a Comment