Tuesday, November 6, 2018

কবিতা - জমিন

ছকে বেঁধেই বলতে হবে তুমি আমি?
ছকে বেঁধে ফেলতে হবে পদক্ষেপ,
বলতে হবে গল্পটা তোমার আমার!
এমন কেন?
তুমি বৃত্ত হও আমি কেন্দ্র হব। 
অথবা তুমি কেন্দ্রে যেও আমি তোমা হতে দূরে দূরে আরো দুরে চলে যাই!
মনটা উড়ুক বেলুনের মত।
একটা জাহাজ মার্কা বেলুন। উড়ে চলে নিষিদ্ধ নগরে, অচেনা জানলায় ফেলে আসে দীর্ঘশ্বাস।
সব তোমার জানতে হবে? কেন? সব জেনো না।
মানুষের বুকের জমিন তো রঙ বদলায় মাঝে মাঝেই।
সে জমিন সবুজ থেকে কালচে সবুজ হতে পারে,
হতে পারে মেঘের মত সাদা!
সেখানে তুমি করো রাজ্যশাসন, আবার দস্যু এসে হানা দেয়।লুটে নিয়ে যায় যা ছিল একদিন তোমার।
যাহ! হেরে গেলে? পালিয়ে গেলে?!
এত সহজেই প্রেম হারতে শিখেছে আজকাল?!
প্রহরী রাখলে না কেন?
সদর দরজায় রাখলে না কোন ব্যাঙ্গমাব্যাঙ্গমীরে! শোলক বলা বুড়োদের দিতে তালা বানিয়ে৷
আহ! এমন বোকাটে রাজার রানী হয়ে মরব কেন?
এই দেখো উলটে দিলাম বোর্ড।
এবার তুমি কিন্তু বিরোধীদল, দস্যু হলো রাজা।
ইন্টারেস্টিং কি বল?!
আর আমি? আমি তো সেই মেয়ে, বন বাদাড় শহর, বন্দর পেরিয়ে দিন রাত্রি উড়ে যাচ্ছি জাহাজ বেলুনে।
মাঝে মাঝে যুদ্ধ বাঁধাচ্ছি তোমার বুকে,
আগুন ধরিয়ে দিচ্ছি তোমার রক্তে,
নিজে পুড়ছি তোমায় পোড়াচ্ছি।
রাজা পুড়লে রাজ্যপাটের কি প্রয়োজন?
তছনছ হোক, ধ্বংস হোক।
আচ্ছা দস্যুর কি হবে?
সেও তো রাজা। বিদ্রোহী, লুটেরা রাজা!
হাহাহাহা....!
এই জানো, বিদ্রোহীর থাকে কিন্তু ভীষণ টান।
কেড়ে নিতে চায় সব সবকিছু, ছিঁড়েখুঁড়ে দেখে নিতে চায়, করতে চায় দখল সবটা জমিন!
যে দহনে পোড়ে না মনুষ্য হৃদয়, সেই দহনে পোড়াতে ভালোবাসে সে।
আচ্ছা ভালোবাসতেই হবে কেন?
এসো তো কাঁচের তলায়। তোমায় দেখি উল্টেপালটে। তুমি পরাজিত সৈন্য শিবিরে কয়টা বুনেছো বীজ?
কি ফোটালে? গোলাপ, বেলী, জুঁই, দোলনচাঁপা?
কয়বার করলে তোপধ্বনি? পায়রা ওড়ালে?
ভালোবাসলে?
এই শুনছ! আগামী শীতের আগেই ঘরে তুলবে রবিশস্য শত্রুপক্ষ তোমার,
জেনো তোমারই জমিনের পাড় ভেঙে নিয়ে যাবে কে বা কারা
রাতের আঁধারে,
কেটে নিয়ে যাবে এই বেলা গোলাপের ঝাড়।
শুনেছো তো?
সে যাকগে। শুধু দস্যি রাজার নস্যি হতে কে চায়?
এসো বদলে ফেলি ঘর, চল পালাই।
তুমি বলবে আজ হাওয়া হব
আমি বলব সমুদ্র
তুমি বলবে এসো চুমু খাবো
আমি বলব রাতটা নামাও
লক্ষ পিদিম জ্বলুক বুকের জমিনে!
তুমি বলবে জ্বলুক না! পুড়ে যাক অমরত্বের প্রাসাদ!
আমি বলব চল আগুন হই......!
২৭/৯/১৮

কবিতা- একটা জরুরী কথা বলবার ছিল

একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
প্রতি বাস্তবতায় তুমি ছিলে অধিশ্বর,
তুমি ছিলে অলিগলি প্রান্তর জুড়ে।
একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
অরুন্ধতী ছিল আলো জ্বেলে তোমার পথে
হেমন্তের ঝরা পাতার দীর্ঘশ্বাসে ছিল
তোমার অপেক্ষা!
একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
তপ্ত আবেগে অস্তিত্বে হয়েছিল প্রবল বর্ষন,
রক্তে ভাঙন আর প্রেমের উন্মাদনায়
হৃৎপিন্ডে প্রবল করাঘাত!
একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
অষ্টম জগতটা ছিল তোমার নামে কেনা
সপ্তমে দিনরাত্রি ঋণগ্রস্থ তুমিহীনতায়
অথচ পঞ্চমে সাজ সাজ রবে তোমার রাজ্যপাট!
একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
তৃতীয়ার চাঁদে তোমায় পাঠিয়েছি নিমন্ত্রণ
সন্ধ্যের ঘাসফুলে ভালবাসা
কার্তিকের রাত জুড়ে স্পন্দিত বাতাসে প্রেম!
একটা জরুরী কথা বলবার ছিল
অক্টোবরের শেষ সন্ধ্যায় বিবাগী হবে জোছনা,
তুমি ভুলবে পথ,
বিপাশার কোল ঘেসা রেস্তোরাঁয়
বাজবে ভায়োলিন!
সহস্র বছরের লুকোচুরি শেষে
আমাদের আবারো হয়ে যাবে দেখা!
সেইদিন,
ভালবাসি বলবে তো?!

২৯/৯/১৭

কবিতা - জল

আমি জল ভালবাসতাম
আর তোমাকেও
তুমি ছিলে আদিগন্ত অদেখা এক হ্রদ
তোমার জলে চাঁদ ডুবে যায়, কুয়াশা পথ হারায়!
আমি জলজ জীবন ভালবাসতাম
শ্যাওলায় আবৃত তোমাকেও,
তোমার নিস্তরঙ্গ শরীর জুড়ে জলের ঘ্রাণ
শতবর্ষী বটের মত, আধডোবা সিঁড়ির মত।
আমি জলের চোখে দেখেছি প্রেম
নিম্নগামী প্লবতায় তোমাকেও
তোমার হৃদয় জুড়ে মাধ্যাকর্ষণ
তুমি যেন এক অতলান্ত রহস্য!
আমি জল ভালবাসতাম
আর তোমাকেও
তোমার বুকে শরতের আকাশ হয়ে
বিম্বিত হয়েছি প্রতি সূর্যে,
আশ্বিনের ঝড় হয়ে তোমায় ঘিরে করেছি মাতম!
চাঁদ জাগা রাত হয়ে তোমায় শুনিয়েছি
দুর নক্ষত্রের গান!
ভোরের কবিতায় বলেছি আরব্য রজনীর
না ফুরোন গল্প,
আমি জলের গল্পে তোমায় খুঁজেছি
আর তোমার পদ্মপাতার দুঃখও,
আমি জল ভালবাসি
গ্রহণ লাগা তোমাকেও
তোমার চোখের তারায় দুর সমুদ্র
অবগাহনের তৃষ্ণা জুড়ে ঝড়ের বার্তা!
শেষ হেমন্তে কৃষ্ণপক্ষের ভাঙা চাঁদে বিভ্রম লাগে
তুমি কি ফের মানুষ হয়েছিলে?!
আমি জল ভালবাসতাম
জলজোছনায় প্লাবিত তোমাকেও।।

২/১০/১৭

কবিতা- শব্দ

অথচ শব্দের গায়ে লাগে না পাপ
মানুষের দিনরাত্রির মত
মানুষ রক্ত ঘাম পরীক্ষা দিতে দিতে ক্লান্ত
অথচ তার পাপের ফর্দ নীলনদসম!
অথচ শব্দেরা রাজহংস
শব্দেরা চন্দনগন্ধী
মানুষের বুকের তলায় শুধু চোরাবালি
মানুষের পাঁজরায় উইয়ের ঢিবি।
অথচ শব্দ গুচ্ছ পায় শুদ্ধতার খেতাব
শব্দগুচ্ছ লেখা হয় স্বর্ণাক্ষরে
মানুষের চোখের দামে বিক্রি হয়ে যায় ভালোবাসা
নিকোটিনে ফুসফুসে ক্ষত অথচ শব্দের গায়ে উজ্জ্বল
সোনালী আভা!
অথচ শব্দের গায়ে প্রেম হেলান দেয় না
প্রেম প্রতিবাদ করে না, শব্দকে করে প্রত্যাহার
অথচ প্রেম শব্দহীন অন্ধকারে বসে থাকে
পাপ স্খলিত মানুষের জন্য
কাদা মাটি জল মানুষের জন্য
রক্ত মাংসের মানুষের জন্য।।
অথচ প্রেম শব্দকেই বেসেছিল ভালো
মানুষকে নয়....!
৩/১০/১৮

সমাপ্তি-একটি কথাকাব্য

কেমন একটা মেঘলা ছিল সেই দিন যেদিন তুমি আমায় বলেছিলে আজ এখানেই হোক সমাপ্তি। সমাপ্তি তো কোন ফুলস্টপ নয় যে একটি ডট দিয়েই বন্ধ করে দেবে দুয়ার। মনের মাঝে যে তুমি আছো। ঘরবসতি কর রাজার মত সেখান থেকে কেমন করে তোমাকে তাড়াই বল? কি করে রাজার রাজত্ব ভেঙ্গে দিয়ে বলি 'যাও ভাগো! সমাপ্তি যখন টেনেছোই তখন আর আমার মনে থাকতে পারবে না। এখানে তোমার দিন ফুরিয়েছে!' তাই কি বলা যায়?! বল?
মনের তুমি অনেক দূর ছড়িয়েছো তোমার রাজত্ব আসল তুমির চেয়ে। রাজত্ব ছেড়ে সে যেতে চাইবে কেন? বরং তাকে তাড়াতে চেয়েছি এই অপমানে রাগে ক্ষোভে মনের পৃথিবী ভেঙ্গে চুরে ,জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করবে না বল?
একদিন হয়ত সমাপ্তি বলে কিছু থাকবে না আর। থাকবে শুধু শুরু আর সীমাহীন চলতে থাকা। এই শব্দটিকে নির্বাসন দেয়া হবে শব্দরাজ্য থেকে। তখন আর কোন রাজার রাজত্ব পুড়বে না অপমানের অঙ্গারে। আর কেউ কাঁদবে না অঝোর ধারায়। আর কেউ খুঁজবে না স্লিপিং পিল। আর কেউ চাইবে না হতে নিখোঁজ ভীড়ের ভেতর।
সমাপ্তি তোমায় দিলাম নির্বাসন ভালো না লাগার পৃথিবীতে। সেখানে তুমি দিয়ে যাও অবিরাম ডট। ঘটিয়ে যাও ছেদ। অথবা বসিয়ে যাও দীর্ঘ দীর্ঘ শূন্যস্থান। যা খুশি কর।
শুধু এখানে আসবে না। চির বসন্তের পৃথিবীতে তোমার প্রবেশ নিষেধ!
আর কোন তুমি খুঁজে পাবে না এই শব্দটিকে। ভাঙ্গবে না রাজ্যপাট। শুধু ভালোবাসাই তুমি ফিরিয়ে দেবে আরো ভালোবাসবে বলে।
২৫/১০/১৭

কণাকাব্য

১।
ঠিক এইরকম ঘন সবুজ জগতে আমি থাকি
আমার চোখের ভেতর সবুজ বন, কানের ভেতর পাখির কুজন, 
আমার গলার ভেতরে শোনায় গান বউ কথা কও, ফিঙে, বুলবুলি....
আমার নিউরণে তীব্র ফুলের সুবাস,
তুমি কেমন করে আমায় খুঁজে পাবে বল?
কেমন করে?!
৩/১০/১৮
২। 
অপাপবিদ্ধ প্রেমের গল্পটা জমা রেখো বুকপকেটে
একটি মুনিয়ার শিস জমা রেখো বুকের ভেতর
দিন ফুরালে ফিরে এসো নদীর মত
সূর্যের দিনে প্রেমকে করো ফেরারী.. …!
৩/১০/১৮

৩।
এই শহরে নির্জনতাই দামী
কতকটা বুঝেছে চাঁদ
কতকটা এই আমি...!
২/১০/১৮

৪।
কে তুমি
ভালোবাসাকে বলো অচ্ছুৎ?
তুমি তবে কোন নরকে রাখবে মাথা?
কোন আগুনে করবে বাসর?
১৪/১০/১৮

৫।
আমার চোখেই সূর্য জ্বলে!
আমার চোখেই বিশ্ব
আমিই তো সূর্যকন্যা
আমিই মহাবিশ্ব!!
১৪/১০/১৮

৬।
নাইবা ভালোবাসলে আমায়
কিন্তু জেনে রাখো
আমায় তুমি ভুলতে পারবে না...!!
১৪/১০/১৮

৭।
আমাকে একাই থাকতে দিও
আমি শহরের বুকে ছোট্ট দ্বীপের মত জেগে থাকব
আমাকে একাই থাকতে দিও...!
২২/১০/১৮

৮।

কি করে কাটে গো দিন দেখলা না
তোমার জন্য রক্ত জল ফুরিয়ে গেল জানলা না
শর্ত ছিল দুপুর হবে
শর্ত ছিল শালিক হবে
ভুইলা গেলা? 
৩০/৯/১৮

৯।
সেইসব রাতে জেগে থেকো
যে রাত গুলোকে চেনো না তুমি
সেই রাত গুলো দেখো
যে রাতে অস্তিত্ব বলে শুধু আমিই তোমার
আর কেউ নয় 
আর কেউ নয়....!
৩০/৯/১৮

Translated poem - jol

From the Translation Desk of Hasan Haider

Sraboni Ahmed Jui's Bengali poem "Jol"
আমি জল ভালবাসতাম
আর তোমাকেও
তুমি ছিলে আদিগন্ত অদেখা এক হ্রদ
তোমার জলে চাঁদ ডুবে যায়, কুয়াশা পথ হারায়!
আমি জলজ জীবন ভালবাসতাম
শ্যাওলায় আবৃত তোমাকেও,
তোমার নিস্তরঙ্গ শরীর জুড়ে জলের ঘ্রাণ
শতবর্ষী বটের মত, আধডোবা সিঁড়ির মত।
আমি জলের চোখে দেখেছি প্রেম
নিম্নগামী প্লবতায় তোমাকেও
তোমার হৃদয় জুড়ে মাধ্যাকর্ষণ
তুমি যেন এক অতলান্ত রহস্য!
আমি জল ভালবাসতাম
আর তোমাকেও
তোমার বুকে শরতের আকাশ হয়ে
বিম্বিত হয়েছি প্রতি সূর্যে,
আশ্বিনের ঝড় হয়ে তোমায় ঘিরে করেছি মাতম!
চাঁদ জাগা রাত হয়ে তোমায় শুনিয়েছি
দুর নক্ষত্রের গান!
ভোরের কবিতায় বলেছি আরব্য রজনীর
না ফুরোন গল্প,
আমি জলের গল্পে তোমায় খুঁজেছি
আর তোমার পদ্মপাতার দুঃখও,
আমি জল ভালবাসি
গ্রহণ লাগা তোমাকেও
তোমার চোখের তারায় দুর সমুদ্র
অবগাহনের তৃষ্ণা জুড়ে ঝড়ের বার্তা!
শেষ হেমন্তে কৃষ্ণপক্ষের ভাঙা চাঁদে বিভ্রম লাগে
তুমি কি ফের মানুষ হয়েছিলে?!
আমি জল ভালবাসতাম
জলজোছনায় প্লাবিত তোমাকেও।।
#জল
#শ্রাবণী জুঁই
২/১০/১৭
Love for the water
*********************
I would like water
I would love you too.
You looked like a lake hidden in the horizon
In your water the moon sinks, the fog loses its course!
I was attached to the life of amphibians
You too, when you are covered with seaweed,
Your calm body smells of water
Like the very old banyan tree, the stairs half sunk.
I found love in the stream's eye
I also found you in down buoyancy
Your heart has a huge gravity
You are a kind of endless mystery.
I loved the water
You as well
I would reflect on each sunrise
Being the autumn sky in your bosom,
All around you, I cried like the 'Aswin' storm !
Waking up at night with the moon
I had you hear the songs of far off stars!
I told you the incomplete stories of the Arabian Night
In the morning poems or mine,
I looked for you in water tales,
I looked in your sorrow for the lotus leaf,
I loved the water
I loved you while you eclipsed.
In your eyes the inaccessible ocean
In which you like to dive looked like a bad omen,
In late autumn, it's the broken moon of a dark fortnight.
Have you changed in a human being once again?!
I was an admirer of water,
I loved you as you immersed in the watery moon flickers.
Hasan Haider
03 October 2018

কবিতা - সাবেক

আমার উনপঞ্চাশতম সাবেকের গায়ে ছিল
পুরোন বইয়ের মত সুবাস
তার বুকে মুখ গুঁজে থেকেছি এক শতাব্দী
কারণে অকারণে ছুঁয়ে দিয়েছি তার চোখ, তার মুখ
ফানুসের মত উড়েছি রাতের পর রাত।
আমার সাবেক প্রেমিকেরা আমায় ডাকত রাধিকা বলে
আমি রাধার মতই কলঙ্কিনী খেতাব কুড়োই
কুড়োই ঝরা বকুল,
আমার পায়ে আলতা মেখে দিত যে প্রেমিক
তাকে আমি সূর্য বলে ডাকতাম
গনগনে আগুনে পুড়ে গেছি আপাদমস্তক!
আমার সাবেক ছিল এক দুর্বিনীত দস্যু
তার রক্তে ছিল ভীষণ তাড়া, ছিল দখলের নেশা!
নেশাগ্রস্থ দিনমান কেটে যেত
তার উদ্দাম রক্তের গভীরে ডুবে ডুবে।
আমার সাবেক প্রেমিকেরা সকলেই ছিল
উন্মাদ, মাতাল, জুয়ারী।
আকন্ঠ মহুয়া মাতাল প্রেমিক আমার!
ঝড়ের মতই উড়িয়ে নিত দ্বীপাঞ্চলে
লবনাক্ত হাওয়ায় হাওয়ায় ভরিয়ে দিত
দ্বীপদেশীয় প্রেমের গানে!
আমার সাবেক প্রেমিকগণ
যাদের আমি ডেকেছি পাখি কিংবা ঘাস ফড়িং
বিষাদগ্রস্থ তাসের টেবিলে বাজি ধরেছিল লুব্ধক,
আমার তিরান্নব্বইতম প্রেমিক
তার হাতের রেখায় ছিল কপর্দকশূণ্যতা!
আমার সাবেকগণ প্রত্যেকেই বাজিতে হেরেছিল
প্রত্যেকেই করেছিল অভিসম্পাত!
অথচ খেলাটা সহজ ছিল- 'প্রেমকে বল জোছনা হতে!'
৪/১০/১৮

প্রলাপদ্বয়

একটা অসুস্থ নিউরনের দুঃখ ঝরে পড়েছিল কাল রাতে
ফ্লুরোসেন্ট আলোতে ছিল না অক্সিজেন
ভাববার কি ছিল?!
টিভি কমার্শিয়াল, সারি সারি প্রশ্ন?
বিষন্ন নির্লিপ্ততায় রাত গভীরে ঘন্টা বাজে প্রহর গুনে
দুরের বনে ছাতিম ফুলের ঘন দীর্ঘশ্বাস ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে রাতের বাতাসে
হাসনা হেনার ঝাড়ে বসে থাকে অতীত,
নিউরন জুড়ে যন্ত্রণার ঢেউয়ে ফিরে আসে
গত জন্মের পাপ, ফেরারী দুঃখ
অসমাপ্ত গল্পের সুতীব্র ব্যথায় মৃত্যু হয় কালোত্তীর্ণ যুগের।
কাল রাতে নিউরোনীয় শোক সভায় বিচ্ছিন্ন কবি বলেছিল 'শুধু নিঃসঙ্গতা বেঁচে থাকবে!'
৫/১০/১৭

২। প্রলাপ ২- ঋণ
প্রতি সেকেন্ডের বিষাদ গুনতে
তুমি এসো আমার বাড়ী
একলা আকাশে বিবর্ণ মেঘে গুচ্ছ অভিমানের জমাখাতায় লিখো ক্ষতিপূরণ,
প্রেমের আঠাশটি কবিতায়
তোমার নামে খুলো নতুন হিসেব।
আমি দেউলিয়া হবার আগেই বুঝে নিও
ভালবাসার বাৎসরিক দেনাপাওনা!
আমার নামে হুলিয়া জারি করার আগেই
গুছিয়ে নিও বিপন্ন হৃদয়ের ঘরখানা
অগোছালো সময় বারান্দায় ফোটা বিচ্ছিন্ন গল্পগুচ্ছ, রোদে শুকোতে দেয়া মনোছবি, ভেজা মেঘে বিলীন প্রেমের তেত্রিশটি পঙক্তি মালা,
ঝড়ে হারিয়ে যাওয়া দুর্বিনীত প্রথম প্রেম!!
আমি হারাবার আগেই বন্ধ করো
অভিযোগের চলমান হিসেব,
ক্রমবর্ধমান তিক্ততায় পোড়া বিপনিবিতান,
তপ্ত রোদ, প্রখর শরতের আকাশ!
প্রতি মুহুর্তের প্রেম বুঝে নিতে
তুমি করো চুলচেরা বিশ্লেষণ,
আমি চলে যাবার আগেই নিলাম ডেকো,
প্রেমের দামে বেচে দিও সুখ, না বিকোন কবিতা, অসমাপ্ত গল্পের সারি, স্মৃতির পেইন্টিংস!
আমার ঘরে তালা দিও, বাজেয়াপ্ত করো ব্যক্তিগত তিনশোটি প্রেমিক মুহুর্ত, মহুয়ায় বিভোর একান্ত সময়!
তোমার অভিযোগের বিপরীতে জমা নিও আমার ঋণগ্রস্থ একটি শুদ্ধতম প্রেম!
৫/১০/১৭

কবিতা- স্মৃতি

বাতাসে চায়ের গন্ধ!
শেষ শরতের মাদকতায়
হেঁটে যাই বিক্রিত বিকেলে,
বাতাসে চায়ের গন্ধ মনে করিয়ে দেয়
একজোড়া দুর্বিনীত চোখ, 
চায়ের কাপে রহস্য,
চোর কাঁটায় পলাতকা শাড়ির আঁচল
চুরি করা রোদের ফুল, চোরাকারবারি প্রেমিক!
বাতাসে চায়ের গন্ধ মনে করিয়ে দেয়
হাতের মাঝে হাত আর কখনও না ফুরোনো গল্প
বৃষ্টির সোঁদা গন্ধে প্রথম প্রেমের স্পর্শ!
বাতাসে চায়ের গন্ধ
কামিনীর বুক জুড়ে স্মৃতি,
চোখের গভীরে চোখ
মুগ্ধ বিস্ময়!
বাতাসে চায়ের গন্ধ
মনে করিয়ে দেয় শুদ্ধ সকাল,
বাঁধ ভাঙা হাসি, পাঁচটা গোলাপ, মুঠোভর্তি বকুল একটা দোয়েলের শিস, ঝাঁকড়া চুলে অবাধ্য বাতাস!
পরিবর্তনহীন সময় বলয়ে,
মুখোমুখি দুজনা মুঠোবন্দী প্রেমে।
বহুযুগ পুরোনো বার্তাবাহী বাতাসে আজ তারুণ্যের গন্ধ,
দুই দুয়ারী স্মৃতির গন্ধ!

৮/১০/১৭

কথোপকথন ১৫

আমাকে ছুঁয়ে বলিস ভালোবাসিস না
কোনদিন চড়ুই পাখির হৃদয়ে বাসা বাঁধিসনি
বলিস শেষ ট্রেনে তোর ঘরে ফেরার তাড়া ছিল না
কলের তলায় তুই তৃষ্ণার জল নয় একজোড়া ভেজা হাতের অপেক্ষা করতিস!

করিডরের দীর্ঘতায় তুই হারিয়ে গেছিস কবে
ছায়ারা ক্রমহ্রাসমান হতে হতে
একটি বিন্দুতে এসে থেমে গেছে
জানিস তো সে এক বন্ধ্যা বিন্দু
যেটার বৃত্তে রুপ নেবার আর কোনই সুযোগ ছিল না
তুই তো জানতি ইরাবতী!
তুই তো মেখলায় যাবি, কাশবন ঝাউবনে আলতার ছাপ ফেলে দৌঁড়ে যাবি
সেলুলয়েডের ফিতেয় তোর লাল শাড়ি থেকে রঙ চুইয়ে চুইয়ে পড়বে
ফিতেটা লাল থেকে টুকটুকে গাঢ় লাল হতে থাকবে
তোর বেনীতে সে ফিতে দুলবে হাওয়ায় হাওয়ায়
হাওয়ায় হাওয়ায়...
এমনই তো হবার কথা ছিল!

আমাকে ছুঁয়ে বল ভালোবেসেছিস কাকে?
কোন সে রমনী?
কে সে?!
হলুদ চন্দন আর মেহেদী পাতায় রেখেছিস কাকে?
কার বুকে 'অ' আদ্যাক্ষরের ভীষণ ঝড়?

যে রমনী আসবে বলে আর এলো না
আমি তার নাম দিয়েছিলাম পদ্ম
যে রমনীর আলতা রাঙা পা পড়বে এই বুকে
কথা দেয়া ছিল সন্ধ্যার আকাশে
সে রমনী গোধূলির আলো
সেই তাদের গল্পে আমি কই?!
ইরাবতী?

অভিমান, তোর বুকের বাঁ পাশটায় ক্ষত ছিল
মরনাপন্ন ছিলি, মনে পড়ে?
আমি ছিলাম তোর ছায়া
আমি ছিলাম এলোমেলো পায়ের ছাপ
আমি ছিলাম কি শুধুই তোর অন্যমনস্ক আবেগ?!
অভিমান?!

ভালোবাসি না আর!
ভালোবাসতে ভীষণ অরুচি আজকাল
তুই ফিরে যা তো
ফিরে যা সেলুলয়েডের ফিতেয়।
এবার লাল থেকে আসমানী নীল হোস কেমন
ছুঁয়ে দেবো সে ফিতেয় বোনা মেঘচুল, শাড়ির পাড়
ছুঁয়ে দেবো দেবীর করতলে আজন্ম তৃষিত ঠোঁট!
ইরাবতী তুই কি দেবী?! না কি এ শুধু আমারই ভ্রম?!!

৯/১০/১৮

কবিতা- পরাবাস্তব প্রেম

আমি জানি লুকিয়ে লুকিয়ে
রোজ তুমি আমাকেই দেখো
আমি জানি আমার দিনরাত্রির
অভিমান সন্তর্পণে মাপো,
অতি গোপনে ছুঁয়ে যাও আমার এলবাম, 
কভার জুড়ে মন খারাপের বৃষ্টি নামলে
তোমার বুকেও মেঘ জমে।
আমি জানি মধ্যরাতের আলাপনে
তুমি আমায় দেখো সবুজ বাতি জ্বালিয়ে,
তোমার সকাল কাটে বিবশ হয়ে
আমার চোখে চেয়ে!
আমি জানি আমার প্রোফাইল
রাখো কড়া পাহারায়
বিচ্ছুরিত শব্দ গুচ্ছ সযতনে কুড়িয়ে নাও
প্রতিটি দাঁড়ি কমায় রাখো আঙুল, যতি চিহ্নের বিষাদ ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখো,
------------'আজ মেঘেদের মন ভাল নেই' স্ট্যাটাস দেখে
তোমার দিন কেটে যায় রোদ খুঁজে খুঁজে।
আমি জানি আমার মায়াবী হাসিতে
তোমার বুকে হিম জমে
হিসেবে ভুল হয়ে যায়, চশমা ভেঙে যায়,
হারিয়ে যায় মানিব্যাগ!
আমার চুলে রোদের খেলায়
তুমি পুড়ে যাও হিংসার আগুনে, ফিসফিসিয়ে বলো পরজন্মে রোদ হয়ে ছুঁয়ে যাবে আমায়!
আমি জানি আমার টাইমলাইনে অচেনা যুবকের স্তুতিবাক্যে তোমার নিউরনে ঘটে অগ্নুৎপাত,
হৃদয়ে সৌরঝড়!
আমি জানি আমার বসন্ত দিনের ভালোবাসার কাব্যগাঁথায় তোমার শহর ভিজে যায় খুব
নিয়ন আলোয় মিস হয়ে যায় হৃৎস্পন্দন
বাসস্টপে উপচে পড়া ভীড়ভাট্টায় জোনাকীর মিছিল!
দোলনচাঁপার জমাট সুবাসে ঘোরগ্রস্তের মত নেমে যাও ভুল গন্তব্যে, পৌঁছে যাও ভুল শহরে।
শুধু তুমি জানো না তোমার প্রতিবার বলা 'ভালোবাসি' আমার শহরে বৃষ্টি নামায়,
তোমার দীর্ঘশ্বাসে ধেয়ে আসে সাইক্লোন,
সুপারনোভায় ঘটে লক্ষ বছরের বিস্ফোরণ!
শুধু তুমি জানো না তোমার মুগ্ধ বিস্ময়ে
আমার ঘরবাড়ি ডুবে যায় জোস্ন্যার প্লাবনে
গতিপথ হারায় উদ্ভ্রান্ত মেঘের দল।
শুধু তুমি জানো না আমার হাতের রেখায়
তুমিই থাকো, রাশিচক্র আবর্তিত তোমায় ঘিরেই
জানো না দুটি শহরের দুরত্বের মানে।
শুধু নিঃসঙ্গ রাতগুলো জানে, প্রেম একটা পরাবাস্তবতার নাম!
৯/১০/১৭

কবিতা- দেউলিয়া

নিজেকে দেউলিয়া ঘোষনা দেবার আগে
আমি সমুদ্র কিনেছিলাম
গভীর সমুদ্রে জলচর মানবের খোঁজে
নামিয়েছিলাম সাবমেরিন!
এক মধুগন্ধা বিকেলের শঙ্খ ধ্বনিতে জল কেঁপেছিল
গভীর নিনাদে গোধূলির রঙ হয়েছিল কাঁচা সোনা!
জলজ দুটি চোখ ভেসেছিল দশম সূর্যের শেষ আলোকচ্ছটায়!
দেখেছিলাম মহাজগৎ তলিয়ে যাওয়া
গভীর দুটি চোখ!
হৃদয়ে ঘূর্ণিঝড়, অস্তিত্ব জুড়ে প্রবল তৃষ্ণায় বাড়িয়েছিলাম হাত!
চন্দ্রসারথী প্রেমিক আমায় টেনে নিয়েছিল
সেদিন সমুদ্র অতলে অন্ধ আবেগে!
প্রবাল দ্বীপের মধুচন্দ্রিমায় তাঁর চোখে দেখেছি
কৃষ্ণ গহ্বর, অতলস্পর্শী প্রেম!
আমরা সময়কে ডুবিয়ে গল্প করেছিলাম এক শতাব্দীকাল, অনুভবে ডুবেছিলাম লক্ষ বছর!
অথচ;
আপাতঃ নিরীহ এক অমাবস্যা তিথিতে
পালিয়ে গেল সে!
একের পর এক সমুদ্রে চালিয়েছি গভীর অভিযান
মহা সমুদ্রের জলের গভীরে দিয়েছি নিখোঁজ সংবাদ!
সমুদ্রের প্রতিটি জলকণায় লিখেছি হারানো বিজ্ঞপ্তি,
মানব জীবন বিনিময়ে হয়েছি মহাকাল
তরঙ্গমালায় পাঠিয়েছি চিঠি।
"প্রিয়তা, মধুগন্ধা রাতের দীর্ঘশ্বাস বয়ে নিয়ে যাবে এই বার্তা। প্রতারিত বাসরে ফেলে যাওয়া তোমার শঙ্খ হৃদয়খানি ফেরত নিতে এসো আর একবার!"
চাঁদজাগা রাত ফিসফিসিয়ে বলে গেল,
মৃত তিমির ফসিলে পাবে খোঁজ
তারা মাছের বুক জুড়ে দুঃখ তোমায় হারাবার,
আদ্রিয়ানের তীরবর্তী জেলেদের লোকগাঁথায়
মিলবে পথের ঠিকানা!
সেই থেকে দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছি
চন্দ্র পথে হয়েছি নিরুদ্দেশ!
১১/১০/১৭

translated poem- sokhi

From the Translation desk of Hasan Haider:

1.
Sraboni Ahmed Jui's 'Shokhi' translated into English:
কি ছিল তোমার মনে জানি না সখি
বারুদ নাকি হিমালয়?!
তাও জানি না।
তোমার নৃত্য দেখি
বৃত্ত বন্দী আমি,
তুমি প্রলয় ঘটাও
মধুর ঝংকারে।
ঝড় ভালোবাসো সে তো জানতাম
সাইক্লোন টাইফুন ও যে ভালোবাসো
আজ জানলাম।
আমায় ওড়াতে তোমার এত আনন্দ!
পতাকার মত উড়ছি দেখো!
সখি,
ভাল লাগছে তো?!
#সখি
#শ্রাবণী জুঁই
২১/১০/১৮

Boyfriend
--------------
What do you think about, friend
Gunpowder or the Himalayas?
Little do I know.
I see you dance,
I’m locked in a loop though
You bring the catastrophe
With the sweet tinkle,
I knew you loved the typhoon,
Today I come to know you enjoy
Cyclone and hurricane too.
It gives you pleasure to let me fly!
Look, I’m digging like a banner!
Buddy,
Do you feel comfy?
Hasan Haider
22 October 2018

কবিতা- চাঁদ দেখি

আমি চাঁদ দেখি অবসরে
কখনও জানালার ফাঁক গলে
কখনও আনমনে চলতি পথে
অথচ জোস্ন্যায় ভাসি প্রতি পূর্ণিমায়
ডুবি ভাসি অবগাহনে লিখি জোস্ন্যা কাব্য
কবিতার অক্ষর চুঁইয়ে পড়ে রুপালী আলো
আমি জোস্ন্যায় দেখি জীবন
দেখি অস্পষ্ট অতীত
আপাতঃ জ্বলজ্বলে বর্তমান।
আমি চাঁদ দেখি মধ্যরাতে নির্বাসিত একাকীত্বে
গোপন কান্নায়, স্তব্ধ অভিমানে, টর্নেডো বুকে চেপে
চাঁদ অবসরে নক্ষত্র খচিত আকাশও দেখি
ফেলে আসা তারুণ্য দেখি, ভুল প্রেমের গোলক ধাঁধা দেখি, কালপুরুষের কোল ঘেষা বিস্মৃত প্রেমিকের মুখ দেখি!
চাঁদ দেখি বেজোড় বছরে, ঘুমন্ত শিশুর মুখে, মায়ের হাসিতে, বাবার স্বস্তিতে।
আমি চাঁদ দেখি কবিতায়, নিউরনে, লোহিত কনিকায়
শুধু তোমায় দেখি না
দীর্ঘ ছায়া দেখি সমুদ্র অবধি
চকচকে জলরাশি সম্মুখে তুমি
তোমার হেঁটে যাওয়া দেখি
কে ডাকে তোমায়?
সমুদ্র না চাঁদ?!

৬/১১/১৭

Monday, November 5, 2018

কবিতা- মানিব্যাগটা পুরোনো আর আমিও

কারা যেন বলতে চায় আমি হয়েছি বেশ পুরোনো
তোমার বহুল ব্যবহৃত মানিব্যাগের গোপন চেম্বারে বসে থাকি চুপচাপ।
খুচরো পয়সার মুখ দেখো রোজ
অথচ আমি পড়ে থাকি বাড়ি ভাড়ার রসিদ কিংবা বাজার তালিকার সাথে।
যদিও হয়ে গেছি ঝাপসা আর মলিন 
তবুও যদি একবার তাকাতে এ চোখে দেখতে পেতে
সবুজ টিয়ার ঝাঁক, দেখতে পেতে ছোট্ট কপালে রোদ ঝলমলে হেমন্ত বেলা
সেই একই রকম হাসতে পারি আজও।
কারা যেন ফিসফিসিয়ে বলে পাশের চেম্বারে ফোন নম্বর বদলে যাচ্ছে।
নতুন আলো হাওয়ার একজনা এই এলো বলে।
আমাদের পুরোনো নদীটায় তুমি নাকি ভাসালে ময়ূরপঙ্খী নাও,
নাওয়ের নাম কি দিলে পদ্মাবতী?!
দীর্ঘশ্বাসে দৃষ্টি ঝাপসা,
আজকাল আর দেখতে পাই না কোন ফর্দ বা ছেঁড়া নোট!
বহুকাল ড্রয়ারে বন্দী পুরোনো মানিব্যাগের গোপন চেম্বারে বসে আছি চুপচাপ, অপেক্ষায়।
স্যাঁতস্যাঁতে বাতাসে হেমন্তের রোদ উষ্ণতা হারাচ্ছে রোজ আর আমিও হচ্ছি বিলীন জঙধরা জেমস ক্লীপের সাথে।
কিন্তু জানো সেই যে আমার হাসিতে নেমেছিল জোছনা সেদিন দুপুরে,
সেখানে এখনও আছে এলাচের সুবাস, উষ্ণ আহ্বান!
কারা যেন বলতে চায় তুমিও আসছো শিগগির
আমার পাশেই এই ড্রয়ারে।
মেয়েটা তোমায় বুঝলোই না? ফেলে গেলো এখানে এই পুরোনো বাক্সে?
পার্স বন্দী একাকীত্ব আর তুমি।
তোমার দীর্ঘশ্বাসের ঝড় বয়ে যায় ড্রয়ার জুড়ে
চমকে যাই শীর্ণতায়
তুমি কি কখনো জানবে
এই ড্রয়ারে এখনও জ্বলছে আমার হাসি
শুধু তুমি এসেছো বলেই?!

১৪/১০/১৮

কথোপকথন ১৬

তোকে চেনার অনেকটা বাকি আকাশ!

হুম! একলা থাকার সাইড এফেক্টস!

মানে?!

তুমি রাত জেগে তারা গুনবে আর সকাল হলেই বলবে "তোকে চেনার অনেকটা বাকি!"

রাগ করলি?

না। আমার শব্দগুচ্ছ ফেরত দাও।

কোন শব্দগুচ্ছ?

এই যে এতকাল আমায় দেখে কবিতা লিখলে! আমার মেঘ, বৃষ্টি, নক্ষত্র, চাঁদ, জোছনা....
ফিরিয়ে দাও সব!

দেবো তো! কাছে আয়
তোকে দেখি মাথার ভেতর, বুকের ভেতর।
নেমে আয় একবার আমার চোখে আমার মুখে!

গেল হেমন্তে গুচ্ছ কাব্যে ঝরাবে বলেছিলে শিশিরকণা, ঘাসের বুকের মত টলটলে আবেগ।
সেসব গত হলো কোন চোরাবালিতে?!
আমার পাখিদের ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও আমার রোদগলা গ্রীষ্মদিন।

ফিরিয়ে দেবার আগে আমার কবিতার বারান্দায়
একবার আয়, একবার কবিতায় দেখি আকাশ তোর মানচিত্র।

সেসব তো কতই হলো এবার না হয় তুমিই এসো
এই বাড়ালাম হাত, এসো তো দেখি কবির চোখে কয় আকাশের সূর্য জ্বলে?!


১৪/১০/১৮

কবিতা- বুকপকেটে জমানো একাকীত্ব

কতকটা একাকীত্ব ছিল তার বুক পকেটে জমা
রক্ত জমাট একাকীত্ব,
ভীষণ নেশার মত আচ্ছন্ন করে দিতো তাকে।
তার বুকে জোছনা পোড়ানো গল্প ছিল
ছিল ভয়, ছিল আতংক নখ উলটে যাবার মত।
মাঝে মাঝে রাত গভীরে চেপে বসত
বুকের পরে সখিনা বিবি।
সখিনা বিবি নামের না মানুষটা
বুকের উপর পা উঠিয়ে বলত ' বল রক্ত খাবি! বল বল!"
কখনও কখনও ঘুমটা হতো নিখাদ নির্ভেজাল স্বপ্নহীন
সেসব দিনে তার শান্তি লাগত প্রাচীণ ধর্মগ্রন্থের মত
যেন স্বপ্নহীনতাই বেহেশত পাওয়ার চাবিকাঠি।
রাত ভালোবাসত রুকু নামের মেয়েটা
রাত হলেই যে তার দেখা পাওয়া যায়,
ল্যাম্পপোষ্টের তলায় দাঁড়ানো বন্ধ সিন্দুকের মত
লোকটা কখনও আসেনি তার ঘরে।
তবুও রোজ লাল লিপস্টিকে দুর্নিবার অপেক্ষা আলোর পোকার মত মানুষটার জন্য।
কেন সে রোজ একই পথে একই ল্যাম্পপোষ্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকে?
অনেক বারই ভেবেছে রুকু,
অবশ্য প্রশ্নেরা স্থায়ী হয় বড়জোর দু'চার সেকেন্ড,
তাকে দেখতে পেলে আবার হারিয়ে যায় দুড়দাড়।
ল্যাম্পপোষ্ট আর সে!
প্রতি রাত কেটে যায় শিকার খুঁজে খুঁজে
কাকে দেয়া যায় বুকের ব্যথা?
কাকে গছিয়ে দেয়া যায় রোজকার জমানো একাকীত্ব?
তার বুক পকেট উপচানো একাকীত্ব।
কবরের নিস্তব্ধতায় রাত গভীরে প্যাঁচার ডাকে
ঘোর কেটে গেলে
সেও ফিরে যায় অন্ধকারের ডেরায়,
যেখানে না মানুষেরা চুপচাপ অপেক্ষা করে।
তার রক্তে ভয়, তার মাথার ভেতরে আলোর পোকার মরণ,
বুক পকেটের একাকীত্ব আর চোখের ভেতর স্বপ্নহীন ঘুমের অপেক্ষায় কেটে যায় আলোকবর্ষ
অথচ তার দেখা হয় না কিছুই।
ল্যাম্পপোষ্টের তলায় সে
সখিনা বিবি আজ নেই, নেই না মানুষেরাও
লিপস্টিকের লাল রঙের হাসিতে
পালিয়ে গেল কে?
রুকুর আজ ভীষণ আনন্দ
সে এলো তার ঘরে ইলিশ পোলাও নিয়ে
সাথে কিছু মিষ্টি ছিল, ছিল চুম্বনের নিশ্চয়তাও।
তার হাতের মাঝে অন্য হাত
তার চোখের গভীরে স্বপ্ন চোখ
কন্ঠায় উষ্ণ আহ্বান আর ঠিক একটা
মানুষের মত আনন্দ,
ভয়হীন, শংকাহীন ঠিক বেহেশত পাবার মত আনন্দ।

১৭/১০/১৮

ছোট কবিতা

১। সখি

কি ছিল তোমার মনে জানি না সখি
বারুদ নাকি হিমালয়?!
তাও জানি না।
তোমার নৃত্য দেখি
বৃত্ত বন্দী আমি,
তুমি প্রলয় ঘটাও
মধুর ঝংকারে।
ঝড় ভালোবাসো সে তো জানতাম
সাইক্লোন টাইফুন ও যে ভালোবাসো
আজ জানলাম।
আমায় ওড়াতে তোমার এত আনন্দ!
পতাকার মত উড়ছি দেখো!
সখি,
ভাল লাগছে তো?!

২১/১০/১৪

২। রাতকাব্য

আবহাওয়া বার্তা বলছে 
পরশু সকালে রোদ উঠবে ভোরের পাখি গাইবে
আর শহুরে হাওয়া বইবে রুটিনমাফিক!
দিনপঞ্জিকা বলছে ব্যস্ত ট্রাফিক আর সবুজ বাতির অনিশ্চয়তায় আটকে থাকবে জীবন।
অথচ হাতের রেখায় দেখছি
তুমি আমি যোজন ব্যবধানে নিজ অক্ষেই ঘুরে যাব আরো একশটা বসন্ত,
সহস্র বৃষ্টি বছরে তাপমাত্রা কমে যাবে
আশংকাজনক হারে তোমার আমার প্রেমের,
নাগরিক রাত গুলো জুড়ে থাকবে আলোর রোশনাই
জুয়ার আসরে বিকিয়ে দেয়া প্রেম, পলাতক হৃদয়।
তুমি ঘুমচাষী হতে চাইবে সপ্তর্ষী নিলামে তুলে
আমি বর্ষাতি দিন!
২১/১০/২০১৭

৩। শরৎ
ছাতিম ফুলের ঘোর লাগা শরতের
রাত গুলো রহস্য বোনে।
গভীরতায় ডুবে যেতে বলে ফিসফিসিয়ে
রাত জাগা জোনাকী,
আজ এখানে ঝিঁঝিঁর আসরে 
ভাবনা হারায় গতিপথ!
রাত জানে কার হৃদয়ে আজ গ্রহণ লাগবে!
কে হারাবে অভিমান!
কোথায় গাইবে চাঁদের দোসর
কার ভাঙবে মান!
শরতের আকাশ জানে ভোরের সূর্যে কার ভালোবাসা থাকে,
কে জ্বালাবে আলোর বাতি, কে রাঙাবে পূর্বকোণ!!
১১/১০/১৭

৪। পদশব্দ

একটা সবুজ বিছানায় শুয়েছিল সে
দেখছিল চন্দ্রমা
দেখছিল গ্রহণ!
একটা নীল জোছনায় ভেসেছিল সে
একটা কালো রাতের বুকে
শুনেছিল অরন্যের গান!
শুনেছিল চিত্রার ডাক
একটা ভ্রান্তলোকের হাতছানি
হ্যাঁ তাও দেখেছিল সে।
আসলে সে তো অপেক্ষা করছিল
চুপচাপ টুপটাপ তারা ঝরা রাতে
সে তাকিয়ে ছিল
ওইই...আকাশে!
মেরুজ্যোতির আলোয় রাঙা
দিগন্তে
কারো পদশব্দ
কি
শোনা যায়?!
১০/১০/১৪

কবিতা- হার

শুনলাম তুই নাকি বিষ খেয়েছিলি পরশু রাতে?
পরশু রাতে চাঁদ ডোবা অব্দি আমি ছিলাম জেগে,
তোর ঘর বারান্দায় আলো জমিয়ে মাত্রই তো ফিরে এলাম,
এত জলদি কেন এলি রে?!
কেন আমার মত তুইও হেরে গেলি?
সেই পাষাণের বুক ভাঙে না
তুই আমি কেন ভেঙে যাই বার বার?
তোর আমার জোনাক জ্বলা গল্প গুলো
অচেনা সমুদ্রে কেন হারিয়ে যায় প্রতিবার?
তুই আমি রোদ্দুর হতে পারতাম না কি, বল?
সন্ধ্যার মায়া হতে পারতাম
পারতাম না বল কুয়াশা হতে?
পরশু রাতে তোর শরীর জোড়া ক্ষত দেখেছি, হৃদয়টা তো ঝকঝকেই ছিল কি বল!
বিষ খেলি কেন রে পাগলী?
প্রেমের জন্য তো সাতটি বছর নিজেকে দাহ করলি, আর বুঝি সইল না হাড়ে?
এক অমাবস্যায় আমি মরেছিলাম মনে আছে তোর?
সন্ধ্যে বেলায় তুই এসেছিলি বরকে সাথে নিয়ে, গা ভরা গহনা দামী শাড়ি, সুগন্ধি,
তুই সুখে আছিস ভেবে মনে শান্তি পেয়েছিলাম
বলেছিলাম 'বেঁচে থাক!'
তুই তবে কেন বিষ খেলি রে বোকা মেয়ে?
আমার গলায় ফাঁস পড়িয়ে খুব হেসেছিল হায়েনারুপী স্বামী আমার,
অথচ সত্যটা তুই ছাড়া বাকি সবে জানল
আমি হেরে গেছি!
তুইও কি তবে আমার মতই হেরে গেলি রে
দ্বীপান্বিতা?

২৩/১০/১৭

কবিতা - অপেক্ষা

চুম্বনের কার্যকারণ খুঁজি না
খুঁজি দুরত্বের
অকারণ আবেগে দূরে থাকা তারার গতিপথ খুঁজি না
খুঁজি হারানো চশমার বিজ্ঞপ্তি, কার্তিকের রোদে শুকোনো নীল শার্ট।
তোমার শহরে ধুলো ওড়ে জানি, 
জানি না ও শহরে নদী মরে যায় কেন ফি বছরে!
ভোর থেকে শবযাত্রা দেখছি আমার শহরে
বুকশেলফের গীতবিতানে জমানো সৌরভ মাখা
পুরোনো চিঠিতে তুমি লিখেছো-
পা ভেঙেছে, বিকেলটা আনমনা
হাসপাতালের বিছানায়
অপেক্ষারত একটি হৃদয় জেগে আছে গো প্রিয়!
তুমি কি আসবে না???
চোখের জলে ঝাপসা সে অপেক্ষা।
চুম্বন জরুরী ছিল না
ছিল তোমার স্পর্শ।
অপেক্ষার অবসান জরুরী ছিল
তুমি কি জানতে না?!

৫/১১/১৮

কবিতা - মেয়ে

মেয়ে তুমি আয়না দেখো?
মেয়ে তুমি ভ্রু পল্লবের ভাঁজ দেখো না
দেখো চোখে জমাট কান্না
দেখো অন্তর্গত একাকীত্ব।
দেখো পৃথিবীতে লোলচর্ম সর্বস্ব লোকেদের ভীড়
তোমায় হস্তগত করার নানান ফিকির।
মেয়ে তুমি আয়না দেখো
মেয়ে তুমি চোখের গভীরে চোখ দেখো
তোমার ছায়ার গহীনে লুকানো ছায়ামানবী দেখো
তুমি কি ছায়া ধরতে এলে?
তুমি কি করতলে ক্ষত লুকোতে এলে?
শুধুই র‍্যাপিং এ মোড়া সুন্দরী নারী হতে এলে?
মেয়ে তুমি আয়না দেখো নিজেকে দেখো না?
তোমার পাশে কি তুমি?
তোমার পায়ে শেকল, গলায় মুক্তো
তুমি কি বেঁচে আছো মেয়ে?
তুমি কি শুনতে পাচ্ছো মেয়ে?
মেয়ে তুমি আয়না দেখো না
আকাশ দেখো, হাওয়া দেখো
মেয়ে তুমি খোলা হাওয়ায় ওড়াও চুল
ওড়াও তোমার জীবন।
মেয়ে, এবার খুব জোরে দৌঁড়ে যেও কেমন,
দৌঁড়ে যেও দিগন্ত অবধি।
আর কে না জানে দিগন্ত সীমাহীন এক খোলা প্রান্তর!

২৪/১০/১৮

কবিতা - না মানুষ

আমার বৃষ্টি বাগানে চাঁদের আসর জমে না বহুকাল হলো
চাঁদোয়া আকাশ দেখি না তাও কয়েকশো বছর!
ষোরশী চাঁদবেলায় জোস্ন্যার ফুল হাতে জড়িয়ে,
পা ছড়িয়ে বসতাম এক কালে নিহারিকাপুঞ্জে,
সেও তো কোটি বছরের পুরোন ইতিহাস।
আজকাল উরষা থেকে এন্ড্রোমিডা অবধি যাতায়াত
আকাশগঙ্গার সবুজ বৃষ্টি বাদল ভুলেই গেছি!
পৃথিবী নামের ঠিকানায় আর ফেরা হয়নি আমাদের,
আমরা নাকি এক যুগে মানুষ ছিলাম
ছিলাম তুমি আমি আমরা
আমাদের বুক ছিল, বুকের গভীরে অচেনা অনুভুতি ছিল
সেই অনুভুতির আমরা নাম দিয়েছিলাম প্রেম!
অদ্ভুত!! একসময় আমরা মানুষ ছিলাম!
আমাদের জনক ও জননী ছিল, ছিল শিশু!
আমরা ভালবাসা নামক দুর্বোধ্য আবেগে পরস্পরকে আঁকড়ে বাঁচতাম!
ছায়াপথের বাঁকে কৃষ্ণগহবর যেমন অমোঘ টানে চূর্ণ বিচূর্ণ করে নক্ষত্ররাজি,
ঠিক তেমনি ভয়ানক ইর্ষা ছিল আমাদের মস্তিস্কের কোষে কোষে,
আমরা ইন্দ্রজাল বিছিয়ে রাখতাম শিকার ধরার আশায়।
আমাদের ছিল দ্বিধান্বিত বাস্তবতা,
আমরা নাকি একই সাথে পাঁচরকম জীবন বেছে নিতাম
একই সাথে করতাম নানা চরিত্রে অভিনয়!
অবাক কান্ড!
আমাদের ছিল শূন্য উদ্যান, বনসাই বেহেশত আর বিচিত্র লোকগাঁথা!
নক্ষত্র শিশুর জন্মোৎসবে এসবই আউড়ে চলেছিল মহাজাগতিক এক উন্মাদ,
বিচলিত চোখ গুলোর দিকে তাকিয়ে দৃঢ় গলায় বলছিল
'পৃথিবী মানুষের শেষ আশ্রয়, সেখানেই ফিরতে হবে একদিন সবাইকে, আবার আমরা মানুষ হব!!'
চমকে যাই, নিদ্রাহীন সময়ে ঢুকে যাই ফের,
ওইসব উৎসব গুলো তাই বহুকাল হয় এড়িয়ে যাই
নক্ষত্র জীবনে ডুবে যেতে যেতে ভুলে গেছি
চাঁদের বাড়ি, জোস্ন্যার উঠোন,
নীল সমুদ্র, স্মৃতির বালিয়াড়ি!
সোনালী তরলে আকন্ঠ নিমজ্জিত নিউরনে
বর্ণিল সমুদ্রের ঢেউ গুনি,
অষ্টক পূর্ণ হবার আনন্দে শুরু করি আরো একবার
না মানুষের নক্ষত্র অভিযান,
'একদিন শূন্য হবে' ফিসফিসিয়ে বলে মহাকাল
অতঃপর,
মৃদু লয়ে আবর্তিত হই সময় বলয়ে
একজন না মানুষ!
২৬/১০/১৭

কবিতা- ব্যাধি

বুকের ভেতর একটা ব্যাধি বয়ে বেড়াই জনম জনম
মাকড়সার জালের মত বিস্তৃত একটা ব্যাধি
তার নাম অপেক্ষা!
তার নাম তুমি
বুকের ভেতরে হৃতস্পন্দন নেই
আছে পেন্ডুলামের মত অপেক্ষা
বাড়ি খায় বুকের খাঁচায় নিয়মিত ছন্দে!
বুকের ভেতর অপেক্ষার ব্যাধি
না ফুরোন স্বপ্নের বসতি
বসতি জুড়ে নীল নীল ছোপ
প্রেম নামের অসুখের বিস্তার অলিন্দ থেকে নিলয়ে,
বুকের ভেতর অপেক্ষার আর্তনাদ
গত জন্মের পাপের যন্ত্রণা কাতর
ভালবাসায় অবিরত রক্তক্ষরণ!
এক জীবনের প্রেম নিলামে তুলে অভিসারী
খোঁজে না অভ্র হৃদয়,
খোঁজে না তালিসমান!
যুগের পর যুগ অপেক্ষা শুধু একটি
জল ছল ছল চোখের, বিষাক্ত নীল একটি হৃদয়ের
প্রতারক প্রেমিকের!!
বুকের ভেতর অপেক্ষার ব্যাধি
বুকের ভেতর তুমি,
অতন্দ্র প্রহরারত হৃদয়ে শুনি
এক, দুই, তিন......!

২৬/১০/১৭

অনুকাব্য সিরিজ-১

১.
তুমি কিসের অপেক্ষায় আছ?
শকুনের মত আমার মৃত্যুর
নাকি একটা সংবাদের
আমি পরবাসিনী হয়েছি?
তুমি কিসের অপেক্ষায় থাকো?
সকালের রোদে আমার হাসি মাখা চোখের
একটি শিশুর
একটি চুম্বনের
মনভরা উষ্ণতার?
তুমি কিসের অপেক্ষায় রাখলে আমায়?
ফিরে আসবার
তোমার পলাতক হৃদয়ের,
চুরি যাওয়া ভালোবাসার
নাকি অপ্রতিরোধ্য প্রেমের?
২.
শীত সকালে হিমের মত ঠান্ডা
মৃত একটা হৃদয় তোমার
সে হৃদয়ে আগুন জ্বলে না জানি
পোড়ে না প্রেমের আগুনে
প্রেত জীবনে কি আনন্দ পেলে?
৩.
মুদ্রার এক পিঠের বাস্তবতা জানি
তুমি আমায় চাও না
দুরে সরাবার প্রাণান্ত চেষ্টা!
মুদ্রার অপর পিঠ কি এমন হতে পারত না
তুমি আমার জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে আছ?!

৪.
কিচ্ছু যায় আসে না
তুমি কি ভাবছ
চন্দ্রগ্রহণে আমি ঠিক
পালিয়ে যাব
গুচ্ছ অভিমানে ভিজে একসা হও
অথবা রুদ্ধ আবেগে জ্বলে ছারখার
কিচ্ছু যায় আসে না
জোস্ন্যা বিলাসী নক্ষত্র পথে
ঠিক ঠিক হারিয়ে যাব।
কিচ্ছু যায় আসে না আজ
ভালোবাসো আর নাই বাসো
জমাট মেঘে ভাসিয়ে দেব ভেলা
কিচ্ছু যায় আসে না আর আমার
আমি শূন্যে হারাই কি স্বর্গ খুঁজে পাই
তুমি হীন হই!
তুমিহীনতাই চাই!

৫।
তুমি নীলাঞ্জনা হলে আপত্তি ছিল না আমার
রুপালী জলকন্যে হলেও না,
প্রেমের দাবী ছেড়ে দিতাম
তোমার হাতের জ্যামিতিক রেখায়
একটু জায়গা পেলে।
তুমি নীলাঞ্জনা হলে
আমি বৈরী বাতাস হতে চাইতাম
তোমার শাড়ির আঁচলে দস্যি ঝড় বুনে দিতাম,
তুমি বনলতা হলেও আপত্তি ছিল না আমার
শুধু তোমায় ভালোবাসার
একচ্ছত্র অধিকারটুকু পেলে!


২৮/১০/১৭

কবিতা- চুয়ান্নতম রোদ

চুয়ান্নটি বিষাদ জমিয়েছিলাম বেনামী হালখাতায়
মুল্যস্ফিতির যুগে হারিয়ে গেল খাতাটা
খরতাপে জ্বলে গেল উত্তরের আকাশ
চুয়ান্নটি দুঃখ জমিয়েছিলাম
কাঁচের মত স্বচ্ছ টলটলে দুঃখ
এক মেঘলা বিকেলে বৃষ্টি বাতাস উড়িয়ে নিল
কোথায় কোন ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপে!
চুয়ান্নটি কবিতায় জমিয়েছিলাম শিশির
শিউলি ফুলের জমা সুরভি
কার্তিকের সন্ধ্যায় চুরি হয়ে গেল ভাঙা শার্সির ফাঁক গলে।
চুয়ান্নটি চিঠি জমা ছিল চিলেকোঠার দেরাজে
জমাট ন্যাপথালিনের সৌরভ মাখা আবেগ,
চিঠির বুক জুড়ে গোপন প্রেমের অভিলাষ
অষ্টাদশী চাঁদের আলোয় চিঠি গুলোও নিখোঁজ হলো!
কিন্তু আমি রোদ জমাতে চাইনি
দু'হাতে উপচে পড়া রোদ জমিয়ে রাখিনি
ঝর্ণাধারায় ঝরে যেতে দিয়েছি
সবুজ বৃক্ষের বুকে রেখেছি সঞ্জীবনি
পত্র পুষ্পে সাজিয়েছি বনভূমি।
অদ্ভুত! আমি রোদ জমাইনি
পদ্মিনী দিঘীর কোল জুড়ে মাছরাঙাদের
ডানায় জমতে দিয়েছি নীল
ঢেলেছি আলো অন্ধ ভিক্ষুকের চোখে!
আমি,
চুয়ান্নটি প্রেমের গল্প বলতে চেয়েছিলাম
জোস্ন্যা অভিসারের কথা বলতে চেয়েছিলাম
বলতে চেয়েছিলাম পঞ্চম চাঁদের আসরে দেখা এক জোড়া চোখের, বৃত্ত বন্দী প্রেমিকের আগ্রাসী প্রেমের!
অথচ;
আমি চুয়ান্নতম রোদের কাছে
বিক্রি করেছি তোমায়, তোমার হাসি,
চোখের রহস্য, হাতের স্পর্শ, খুনসুটি,
আলগোছে তুলে রাখা ঘুম!

২৯/১০/১৭

কবিতা - ভন্ড

ভন্ড

আজকাল গভীরতা হারালেই নিজেকে
অপভ্রংশ মানুষ মনে হয়
মনে হয় হলাহল বিষের উৎস।
কড়িকাঠ বেয়ে নামা উইয়ের ঢিবি আর
প্রস্তরিভূত মাকড়সারা বরাবর একই রকম বিবর্ণতার কথা বলে
যেমন তুমি চায়ের কাপে চোখ রেখে বলেছিলে-
বিনয় জিনিসটা ভন্ডামীর চুড়ান্ত
আমি ভন্ড এক সেবক
তোমার বুকে খুঁড়ছি কবর
আর মোলায়েম গলায় বলছি চিনি খেয়ো না আর!
অপালাপে ক্লান্ত তুমি
অথচ তোমার ঘড়ির কাঁটায় সতেজ বিভ্রান্তি।
আজকাল গতির অপেক্ষায় বসে থাকি ভিখারীর মত
জানা পথের বাঁকে অচেনা আকাশ দাঁড়িয়ে থাকে রোজ
হাওয়াই মিঠে বিকেল মুখে পুরে তোমার খোঁজে সাটিয়ে দেই
হুলিয়া দেয়ালে দেয়ালে।
কতকটা আমিও শিখেছি অতীত বেচে তোমায় কেনা।
তুমি বুক ভরে ঘৃণা করো অরুপ,
স্থিরচিত্রে আমায় দেখে ঢোক গিলো নিয়ম করে দু'বেলা
আর ভীষণ ঘৃণায় গাল দিও 'অপগন্ড কি ভন্ড' বলে,
তবুও ভালোবেসো না অরুপ
কিছুতেই আর কোন ছুতোয় ভালোবেসো না প্লিজ!
তোমার মুখে ভালোবাসিটা
আজকাল বড্ড বেমানান লাগে জানো,
বড্ড বেমানান!

৩০/১০/১৮

কবিতা - বিদায় বন্ধু

#বিদায় বন্ধু

রাত জাগা প্রেম গুলো
তোমার নামে উইল করে দিয়ে
এবার বিদায় নিতে চাই।
ভোরের কান্নায় লিখে দিতে চাই তোমার নাম
শিশিরের শব্দ পতনে বলে দিতে চাই ঘুমহীন রাত্রিকালীন উপাখ্যান,
টুকরো টুকরো বিষাদের মত জমে ওঠা
কুয়াশায় বিলিয়ে দিতে চাই
সকল আক্ষেপ, সংশয়, জমাট কষ্ট!
বারোটি বছরের ভুল বাসরে
ঝরে পড়া শিউলি আর কামিনীর
বুকে জমা ক্রোধ মুছে দিয়ে
ভেঙে দিতে চাই খেলাঘর এবার।
প্রিয় ডায়েরীর পাতায় বন্দী পাখি গুলোকে মুক্ত করে দিয়ে আমিও এবেলার পাট চুকিয়ে নিতে চাই,
বলতে চাই----------
প্রিয় ভালোবাসা, প্রতি প্রজন্মে তুমি খুঁজবে আমায়
প্রতি দরজায় দেবে উঁকি,
প্রতি নিঃশ্বাসে চাইবে আমার চুলের ঘ্রাণ
আজন্ম তৃষ্ণার্ত থাকবে আমি হীন প্রেমে!
জলহীন মেঘে হেমন্তের ডাকে তুমি শুনবে আমারই পদধ্বনি, শুনবে ভোরের বাতাসে ফিসফিসিয়ে বলা আমার অনুচ্চারিত অভিশাপ,
'প্রিয়তম তুমিও নিঃসঙ্গতার আগুনে পুড়ে পুড়ে অঙ্গার হও!'
আর জেনো ভালোবাসি শুধু তোমাকেই
প্রিয় মরিচিকা!


২/১১/১৭

কবিতা- মহামান্য


আপনি আর আপনার কালো কফি একই রকম ক্লান্তিকর মহামান্য
রোজই বাড়ি ফেরেন হুলো স্যুটকেসটা বগলদাবা করে, কফির কাপে দীর্ঘ চুমুক,
সদাগরী করেন জানি কিন্তু স্যুটকেসটা...
কি অত বয়ে বেড়ান বলুন তো?
সন্ধ্যেটা কি করেন? 
হুড়মুড়িয়ে দখিনা হাওয়ায় ভেসে যাওয়া রাতগুলো?
অত একা থাকেন কেন মহামান্য?
দূরবীণে আকাশ দেখেন,
গোঁফে তা দিয়ে তারা গোণেন
অবেলার বাসি ভাতে মাছির উৎপাত
চাকর আসেনি বলে মন খুলে গাল দেন?
আপনার কি খুব অসুখ করেছে মান্যবর?
একলা ঘরে ঝিঁঝিঁর ডাক,
ঘুমের খামতি তাই না?
মহামান্য একবার কি আসবেন এবেলা?
আপনার কালো কফিই না হয় খেলেন আকন্ঠ
একবার হাতটা ধরবেন?
পাশটি ঘেঁষে বসবেন?
কি আর হতো বলেন!
আলিঙ্গনের উষ্ণতায় ভেঙে যেতো দেয়াল
বরফযুগ পেরিয়ে মানুষ হতেন
ডাইনোসরের পদচিহ্ন মুছে সত্যিকারের প্রেমিক হতেন!
এই তো!
মহামান্য! একবার ভেবে দেখবেন?


৪/১১/১৮

কবিতা - আয়না



দীর্ঘমেয়াদি বিষাদে কেটে গেছে
ত্রিশটি রোদেলা বছর
লক্ষাধিক আলোর কণায় জ্বলে গেছে
অস্তিত্বের আয়নাটি,
যে আয়নায় একদা এক কিশোরী হাসত
লজ্জাবনত তরুনীর ভীরু কাজলে থাকত প্রেম।
আজকাল আয়না জুড়ে জোনাকীর চাষবাস
দিন রাত টিমটিম জ্বলে নেভে,
পেন্ডুলামের মত দুলে দুলে হাসে কে যেন,
কে হাসে?!
নীল শাড়ি পরিহিতা এক ঘোরগ্রস্তপ রমনী,
যার মুখ নেই, বুক নেই, নেই নখ ও!
আছে এক জোড়া চোখ, কাঁচ ভাঙা হাসির শব্দ,
আর আছে হৃদয় বিবশ করা নীলগন্ধী
শাড়ির আশ্চর্য রঙ!
নীল শাড়ির বুকে শ্রমিক প্রজাপতির দল
বুনে যায়
হেমন্তের আকাশ!
শাড়ির আঁচলে আস্ত একটা চাঁদ,
দীর্ঘ পাড় জুড়ে অরন্য পাহাড়, বুকের কাছটায় সমুদ্র!
আয়নার মত জ্বলজ্বলে স্বচ্ছ শাড়িতে
শুদ্ধতার ফুল সৌরভ ছড়ায়!
ঘাস, মাটি আর আকাশ মনে করিয়ে দেয়,
বুকের ভেতর অচেনা সেই হাসি,
প্রাচীন গোলাপের তীব্র ঘ্রাণ,
রক্তের কণায় কণায় টের পাই
নীল গন্ধী রমনীয় বিস্তার!
বিষাদ ধুয়ে যায় কার্তিকের আকাশে
রোদ হয়ে যায়, অচেনা পাখির শিস হয়ে যায়,
ঝরা পাতায় হারানো অচিন পথ হয়ে যায়।
আজ সকালে তাই
অস্তিত্বের আয়নায় হাসে সূর্য
নীল রঙা শাড়ির জমিন জুড়ে হেমন্ত!

৫/১১/১৭