Monday, November 5, 2018

কবিতা - না মানুষ

আমার বৃষ্টি বাগানে চাঁদের আসর জমে না বহুকাল হলো
চাঁদোয়া আকাশ দেখি না তাও কয়েকশো বছর!
ষোরশী চাঁদবেলায় জোস্ন্যার ফুল হাতে জড়িয়ে,
পা ছড়িয়ে বসতাম এক কালে নিহারিকাপুঞ্জে,
সেও তো কোটি বছরের পুরোন ইতিহাস।
আজকাল উরষা থেকে এন্ড্রোমিডা অবধি যাতায়াত
আকাশগঙ্গার সবুজ বৃষ্টি বাদল ভুলেই গেছি!
পৃথিবী নামের ঠিকানায় আর ফেরা হয়নি আমাদের,
আমরা নাকি এক যুগে মানুষ ছিলাম
ছিলাম তুমি আমি আমরা
আমাদের বুক ছিল, বুকের গভীরে অচেনা অনুভুতি ছিল
সেই অনুভুতির আমরা নাম দিয়েছিলাম প্রেম!
অদ্ভুত!! একসময় আমরা মানুষ ছিলাম!
আমাদের জনক ও জননী ছিল, ছিল শিশু!
আমরা ভালবাসা নামক দুর্বোধ্য আবেগে পরস্পরকে আঁকড়ে বাঁচতাম!
ছায়াপথের বাঁকে কৃষ্ণগহবর যেমন অমোঘ টানে চূর্ণ বিচূর্ণ করে নক্ষত্ররাজি,
ঠিক তেমনি ভয়ানক ইর্ষা ছিল আমাদের মস্তিস্কের কোষে কোষে,
আমরা ইন্দ্রজাল বিছিয়ে রাখতাম শিকার ধরার আশায়।
আমাদের ছিল দ্বিধান্বিত বাস্তবতা,
আমরা নাকি একই সাথে পাঁচরকম জীবন বেছে নিতাম
একই সাথে করতাম নানা চরিত্রে অভিনয়!
অবাক কান্ড!
আমাদের ছিল শূন্য উদ্যান, বনসাই বেহেশত আর বিচিত্র লোকগাঁথা!
নক্ষত্র শিশুর জন্মোৎসবে এসবই আউড়ে চলেছিল মহাজাগতিক এক উন্মাদ,
বিচলিত চোখ গুলোর দিকে তাকিয়ে দৃঢ় গলায় বলছিল
'পৃথিবী মানুষের শেষ আশ্রয়, সেখানেই ফিরতে হবে একদিন সবাইকে, আবার আমরা মানুষ হব!!'
চমকে যাই, নিদ্রাহীন সময়ে ঢুকে যাই ফের,
ওইসব উৎসব গুলো তাই বহুকাল হয় এড়িয়ে যাই
নক্ষত্র জীবনে ডুবে যেতে যেতে ভুলে গেছি
চাঁদের বাড়ি, জোস্ন্যার উঠোন,
নীল সমুদ্র, স্মৃতির বালিয়াড়ি!
সোনালী তরলে আকন্ঠ নিমজ্জিত নিউরনে
বর্ণিল সমুদ্রের ঢেউ গুনি,
অষ্টক পূর্ণ হবার আনন্দে শুরু করি আরো একবার
না মানুষের নক্ষত্র অভিযান,
'একদিন শূন্য হবে' ফিসফিসিয়ে বলে মহাকাল
অতঃপর,
মৃদু লয়ে আবর্তিত হই সময় বলয়ে
একজন না মানুষ!
২৬/১০/১৭

No comments:

Post a Comment